শেখ আবদুল হান্নান : সকালে গরম গরম পিঠা খাওয়ার আনন্দই আলাদা। গ্রামীণ জনপদে চালের গুড়া দিয়ে তৈরি হয় হরেক রকমের পিঠাপুলি। এসব পিঠার মধ্যে রয়েছে ভিন্ন স্বাদের খোলাঝা (খোলাঝাই’)
সাধারণত ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের মানুষ এ পিঠা খেতে বেশি পছন্দ করে। এসব এলাকায় শীত মানেই ঘরে ঘরে ‘খোলাঝা’। এ পিঠা অনেকটাই চিতই পিঠার মতো। যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বেশি তৈরি হয়। শহর-নগরে রাস্তার মোড়ে দেখা মিলবে চিতই এর। কিন্তু খোলাঝা পিঠার স্বাদটা একবার খেলে ভোলা মুশকিল। এ পিঠা খেতে হলে আসতে হবে বৃহত্তর নোয়াখালীতে।
চালের গুড়া এবং হাঁসের ডিম দিয়ে তৈরি হয় ‘খোলাঝাই’। শিশির ভেজা শীতের সকালে খেঁজুরের রসের রাব (তরল খেঁজুর গুড়) দিয়ে এ পিঠা খেতে অসাধারণ। গরুম মাংসের ঝোল দিয়ে খেতেও মজার।

খোলাঝা (খোলাঝাই) পিঠা বানানোর প্রক্রিয়া খুবই সহজ। সাধারণত মাটির খোলায় ‘খোলাঝাই’ তৈরি করতে হয়।
প্রথমে একটি পাত্রে চালের গুঁড়া নিতে হবে। এরপর পরিমাণ মতো স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে চালের গুঁড়ার গোলা (মিশ্রন/কাই) তৈরি করতে হবে। সেই গোলার মধ্যে একটু কুসুম গরম পানি দিতে নাড়তে হবে। এরপর তাতে পরিমাণ মতো কাঁচা ডিম মেশাতে হবে। ডিম একটু বেশি দিলে পিঠা পাতলা হয়। স্বাদও বেশি। সাধারণত খোলাঝাই পিঠায় হাঁসের ডিমই বেশি ব্যবহার করা হয়। এরপর ডিম মিশ্রিত গোলায় পরিমাণ মতো লবণ মেশাতে হবে।

এরপর চুলায় গরম খোলায় মাঝারি আকারের এক চামচ গোলা খোলার মাঝখানে দিয়ে চামচ দিয়ে বা খোলা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পাতলা ও গোলাকার করে দিতে হবে। খোলায় মিশ্রণ যতো পাতলা করে দেওয়া যাবে পিঠা ততো স্বাদের হবে।
এরপর খোলায় দেওয়া মিশ্রণ কিছুক্ষণ ঢেকে রাখতে হবে। কয়েক মিনিট পর ঢাকনা তুলে খুন্তি দিয়ে পিঠা তুলে নিতে হবে। এভাবে খুব সহজেই তৈরি হয় ‘খোলাঝা’। যা খেজুরের রস , নারকেল , খেজুরের গুড় ,রাব, মধু, মাংস বা চা দিয়ে তো বটেই খালি খেতেও অনেক মজা।









