নিজস্ব প্রতিনিধি : শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মমিনুল হক অবশেষে পদত্যাগ করেছেন।
১৯ আগস্ট সোমবার অধ্যক্ষ মো. মমিনুল হক গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন কলেজ সভাপতি আকরাম হোসেন হুমায়ুন।
জানা গেছে, স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থ আত্মসাৎ, অযোগ্যতা, ফলাফল বিপর্যয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার, শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ বানিজ্য, শিক্ষার্থীদেরকে জঙ্গি তকমায় পুলিশে সোপর্দ করা, আ’লীগ রাজনীতির প্রভাব কলেজে বাস্তবায়ন করাসহ দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগের দাবীতে শিক্ষার্থীরা ফেনী—সোনাইমুড়ি মহাসড়কে লাগাতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অবশেষে তিনি পদত্যাগ করেন।
কলেজের বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষ মমিনুল হক রাজাপুর স্কুল কলেজকে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিলেন। গভর্নিং বডিকে তোয়াক্কা না করে তার উচ্চ পর্যায়ের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ বানিজ্য, ভর্তি, জেলা পরিষদের অনুদান আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের মাঠ ইজারার অর্থ আত্মসাৎ, ২১ সালে এসএসসি পরীক্ষার অতিরিক্ত টাকা বোর্ড ফেরত দেয়ার অর্থ আত্মসাৎ, ২০১৭ সালে সরকার বিরোধী শিক্ষার্থীদেরকে পুলিশের নিকট সোপর্দ, জেলা ও উপজেলা আ’লীগের নেতাদের ছত্রছায়ায় স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতায় এসব অপকর্ম করেছেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ নিয়ে পদত্যাগের দাবীতে আন্দোলন করেছিলেন। গর্ভনিং বডির সভাপতি আকরাম হোসেন হুমায়ুন বার বার তাকে পদত্যাগের নির্দেশনা দিলেও তিনি আমলে নেননি বলে কমিটির সদস্যরা জানান।
অধ্যক্ষ মমিনুল হকের পদত্যাগের বিষয়ে আন্দোলন সমন্বয়ক ফাহিম মোহাম্মদ পিন্টু জানান, শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার দাবীতে ঐতিহ্যবাহী এপ্রতিষ্ঠানের কোন স্বৈরতান্ত্রিক অধ্যক্ষের যেন আবির্ভাব না ঘটে। আমরা শিক্ষাপযোগী প্রতিষ্ঠান চাই। অধ্যক্ষ মমিনুল হকের পদত্যাগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসসহ ফেনী—সোনাইমুড়ি বিকল্প মহাসড়কে আনন্দ ও বিজয় মিছিল করে।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিবেদিতা চাকমা জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানসহ আমি অনুরোধ ও সিদ্ধান্তের কারনে অবশেষে তিনি পদত্যাগ করেছেন।









