এম. এমরান পাটোয়ারী : ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সামছুদ্দিন আহমেদ বুলু মজুমদার ১৬ জুলাই সোমবার উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন ফেনী-১ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলকে এমপি প্রার্থী চান।
তিনি বলেন, ফেনী-১ আসনে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, নিজাম উদ্দিন হাজারী দলের মনোনীত প্রার্থী হন তবে জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই দুই নেতা ব্যতিত জয়লাভ করার মত একক জনপ্রিয়, যোগ্য নেতা মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল।
তিনি আরো বলেন, দলীয় সভাপতি একাদশ সংসদে দলের মনোনয়ন বিষয়ে যে সকল শর্ত ও জনপ্রিয়তার কথা বলেছেন, অর্থাৎ সাধারন জনগনের নিকট জনপ্রিয়তা, গ্রহনযোগ্যতা, ত্যাগী সংগঠক, কর্মী বান্ধব নের্তৃত্ব, দূর্নামহীন, পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতাকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে। সে হিসেবে ফেনী-১ আসনে দলীয় মনোনয়নে ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেলের কোন বিকল্প নেই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মজিবুর রহমান মজিব, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাকী শিমুল চৌধুরী, পৌর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক মানিক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য শহীদ উল্যাহ, ডা. বদিউজ্জামান পাটোয়ারী, জসিম উদ্দিন, পৌর শ্রমিক লীগ সভাপতি জিয়া উদ্দিন দিদার, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আশিক ইকবাল, কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম স্বপন ও কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মজুমদার, আব্দুল হাই ভূঞা, কৃষক লীগ সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভূঞা, নুর মোহাম্মদ ননী, পৌর ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন মজুমদার, বেলায়েত হোসেন মেম্বার, সেলিম মেম্বার, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে সকল নির্বাচনে দল হতে মনোনয়ন দেওয়া হলেও গত নির্বাচনে তা জোটের দিকে চলে যায়। নামসর্বস্ব দলের এমপির অসহযোগীতা, তৃনমূল মানুষের সাথে সম্পর্কহীনতার কারণে স্থানীয় নিরীহ জনগন, নেতা-কর্মীসহ দলীয় ভাবে জনগনের জন্য আশানুরুপ কাজ করতে না পারার অতৃপ্তিতে আমরা ভূগছি।
ফলে এবার অনেক আগ থেকেই ফেনী-১ আসনে শতভাগ নিরপেক্ষ ও সকল দলের অংশ গ্রহনে নির্বাচন হলেও দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতকরতে আ.লীগ বিশেষ করে শুধু ছাগলনাইয়ার ভোটে জয়লাভ করার মত সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। এজন্য দলীয় হাইকমান্ডের নিকট এ আসনে প্রার্থী হিসেবে রাজপথ কাপাঁনো সৈনিক সোহেল চৌধুরী কে দলীয় মনোনয়নের জোরালো দাবী করছি। ইতোমধ্যে রুটিন মাফিক কেন্দ্রওয়ারী কর্মীদের উজ্জীবিত করা, কেন্দ্রে ভোটার আনা-নেওয়া, ভোটারদের নৌকা প্রতিকের প্রতি আকৃষ্ট করে ও ভোটার মনোযোগ আকর্ষন করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিশ্বস্ত কর্মীদের মাঝে পোলিং এজেন্ট তৈরি, ওয়ার্ডে দায়িত্ব দিয়ে মাঠ জরিপের কাজ ও শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রস্তুতি হিসেবে ফেনী-১ এর আসনে বিশেষ করে ছাগলনাইয়ার ৪৭টি কেন্দ্রে ২৪০টি বুথের জন্য পোলিং এজেন্ট, প্রতি বুথের বিপরীতে ৬ জন করে কেন্দ্রের বাইরে টেবিল এজেন্ট নিশ্চিত করা আছে। এছাড়া প্রতি গ্রামে ১০ জন করে ভোট কর্মী, প্রতি বাড়ীতে ১জন করে তাগাদা কর্মী ঠিক করা হয়েছে। একই প্রস্তুতি আছে ফুলগাজীর ৩০ কেন্দ্রের ও পরশুরামের ২৬ কেন্দ্রের ২৬৮ বুথের জন্যও।
তিনি আরো উল্লেখ্য করেন, ইতিমধ্যে সোহেল চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলের নেতা হিসাবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এ নেতাকে প্রার্থী ধরে ফেনী-১ নির্বাচনী এলাকায় তৃণমূলে নৌকার পক্ষে কর্মী সভা, উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে নানা কাজই নেতা-কর্মীরা সম্পন্ন করছেন। সোহেল চৌধুরী নির্বাচন করার সুযোগ পেলে ও নির্বাচিত হলে দেশ-সমাজের জন্য ইতিবাচক হবে। কারণ সোহেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কোন অভিযোগ নেই।
বিরোধী দলে থাকতে রাজপথে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখা সোহেল চৌধুরী ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালসহ ১/১১ দু:সময়েও দলের পক্ষে জোরালো ভূমিকায় ছিলেন। তার কর্মকান্ডে দলের হাইকমান্ডও সন্তুষ্ট হয়ে অল্প বয়সেই তাঁকে দলের পদবী ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়। হাই স্কুলে পড়াকালীন সময়ে তরুন বয়সেই ছাত্রলীগকে সু-সংগঠিত করা হতে ফেনী কলেজে অধ্যায়নকালীন সোহেল চৌধুরীর একক প্রচেষ্টায় ফেনী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও দলের জন্য রেকর্ড সংখ্যক মামলার আসামী হয়েও দলের হাল ধরে রাখা নেতা সোহেল চৌধুরী।









